ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ (বাসস) : ফার্মেসী পেশা সংক্রান্ত এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন,বাংলাদেশে এখন বিশ্বমানের ওষুধ তৈরী হচ্ছে। শীর্ষস্থানীয় এলডিসি(লিস্ট ডেভেলপমেন্ট কান্ট্রি) দেশ হবার পরেও আমাদের দেশের কমপক্ষে ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী বিভাগ রয়েছে এবং বছরে কমপক্ষে দুই হাজার ফার্মাাসিষ্ট তৈরী হচ্ছে।
তারা বলেন,দেশের সার্বিক ওষুধের চাহিদার শতকরা ৯৫ থেকে ৯৭ শতাংশ মেটানোর পর বিশ্বের ৮৭ টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানী করা হয়। ক্রম সম্প্রসারমান এই বাজারে বাংলাদেশ জিএমপি(গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসেস) ধরে রাখতে সমর্থ হলে এবং সরকারের প্রয়োজনীয় সহোযোগিতা পেলে ২০১৫ সাল নাগাদ ১৫ হাজার কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানী করতে সক্ষম হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
আজ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভিার্সিটি(ডিআইইউ) আয়োজিত ’ফার্মেসী প্রফেশন ইন বাংলাদেশ:কারেন্ট স্ট্যাটাস এন্ড ফিউচার প্রসপেক্টস’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশে ওষুধের বাজার প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার। মাত্র ৩০টি কোম্পানী এই মোট বাজারের শতকরা ৯৩ শতাংশ ওষুধ তৈরী করে থাকে। সরকার সম্প্রতি ১৯৮২ সালে প্রবর্তিত ড্রাগ অর্ডিন্যান্সকে যুগোপযোগী করে জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন।
তারা বলেন,এই ওষুধনীতি সফলভাবে প্রণয়ণ সম্ভব হলে প্রাথমিক অবস্থায় দেশের বড়ো বড়ো হাসপাতালগুলোতে ’হসপিটাল ফার্মেসী’চালু করা হবে। পর্যাযক্রমে যা কমিউনিটি পর্যায়ে চালু করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। তাহলে দেশে ফার্মাসিষ্টের চাহিদা বহুলাংশে বেড়ে যাবে উল্লেখ করে বক্তারা- শুধু পরীক্ষায় পাশের দিকে খেয়াল না করে ভাল ফলাফল করে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্যও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী অনুষদের ডীন অধ্যাপক আ.ব.ম ফারুক বলেন,’খুব শীঘ্রই সরকার জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির আদলে ওষুধনীতি ঘোষণা করতে চলেছে। যাতে প্রাথমিকভাবে বড়ো হাসপাতালগুলোতে ’হসপিটাল ফার্মেসী’ চালুর বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ’১৯৯৭ সালেও একবার পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে দেশের বড় ৬টি হাসপাতালে ’হসপিটাল ফার্মেসী’ চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালের মধ্যে দ্বৈত প্রশাসন সৃষ্টি হবার ধুয়া তুলে তৎকালীন কারো কারো বিরোধীতায় সেটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।’ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মত ’হসপিটাল ফার্মেসী’ চালুর উদ্যোগ সফল হলে সার্বিক ওষুধ শিল্প এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্যই মঙ্গলজনক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডিআইইউ এর উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল মোমেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তৃতা করেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ শওকত আলী,পপুলার ফার্মাসিউটিক্যাল লি: এর জিএম মো: আক্তার হোসেন,ড্রাগ এ্যাডমিনিেিষ্ট্রশনের উপপরিচালক মো: রুহুল আমিন, টেকনো ড্রাগ লি: এর পরিচালক(কারিগরি) ইশতিয়াক আহমেদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভিার্সিটি’র বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজ এর চেয়ারম্যান ডা:এস কিউ পাটোয়ারী,ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারিসহ সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ।