কলকাতা, ২২ মার্চ (বাসস) : বাংলা চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য তার নাম ঘোষণা ৫৩ বছরের কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি। তিনি তার অভিনয় দক্ষতা অর্জনের জন্য সত্যজিৎ রায়, তপন সিনহার মতো পরিচালকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (৭৭) বলেন, এটি আমার জন্য একটি ‘আবেগপূর্ণ মুহূর্ত ছিল। যাদের পথনির্দেশে তিনি একজন অভিনেতায় পরিণত হয়েছেন তাদের পক্ষ থেকে সৌমিত্র পুরস্কার গ্রহণ করবেন বলে জানান।
তিনি বলেন, ‘আমি এ পুরস্কার পাওয়ায় অত্যন্ত আনন্দিত। এটি আমার জন্য একটি আবেগপূর্ণ মুহূর্ত। গত ৫৩ বছর ধরে আমি যে কাজ করেছি এটি হচ্ছে তার স্বীকৃতি। আমার দেশের জনগণ আমার কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি দিয়েছে।’
পদ্মভূষণ পুরস্কার বিজয়ী বাংলা চলচ্চিত্রের এ জীবন্ত কিংবদন্তি তার অভিনয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্য সত্যজিৎ রায়, তপন সিনহার মতো পরিচালক ও ছবি বিশ্বাস ও তুলসী চক্রবর্তীর মতো প্রখ্যাত অভিনেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় ও তপনদার মতো এই শিল্পের অনেক প্রবীণ লোকজনকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমি অতীতে ফিরে গেছি। আমি ছবি বিশ্বাস ও তুলসী চক্রবর্তীর মতো অভিনেতাকে ধন্যবাদ দিতে চাই। আমি তাদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দিতে পারলে অনেক খুশি হতাম।
ছবি বিশ্বাস ও তুলসী চক্রবর্তীর মতো অসাধারণ গুণী অভিনেতাদের এ পুরস্কার না দেয়ায় সৌমিত্র দুঃখ প্রকাশ করেন।
ভারতে প্রতিভাবান অভিনেতাদের অন্যতম সৌমিত্রের প্রথম ছবি সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘অপুর সংসার’। ছবিটি ১৯৫৯ সালে মুক্তি পায়।
সৌমিত্র অতি অল্প সময়ের মধ্যে সত্যজিৎ রায়ের নজর কাড়ায় তিনি সোনার কেল্লা, চারুলতা ও ঘরে বাইরেসহ এ চলচ্চিত্র নির্মাতার অনেক ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ঝিন্দের বন্দি, কোনি, কাপুরুষ, আকাশ কুসুম, অরণ্যের দিনরাত্রি, জয় বাবা ফেলুনাথ, তিনভূবনের পাড়ে, গণশত্র“ ও শাখা-প্রশাখা।
পদ্মভূষণ পুরস্কার প্রাপ্ত এ অভিনেতা অপর্ণা সেন, গৌতম ঘোষ ও ঋতুপর্ণ ঘোষের মতো বিখ্যাত পরিচালকদের সাথে কাজ করেন।
বাসস/এএফপি/এমএজেড/১৭৩০/মমআ/১৬৪৫/এসডি