ইসলামাবাদ, ২২ মার্চ (বাসস/এএফপি) : পাকিস্তানে পারিবারিক মর্যাদা বা সুনাম হানি করার অভিযোগে গতবছর অন্তত ৯৪৩ জন মহিলা ও বালিকাকে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার গ্র“প এ কথা জানায়।
মুসলিম রক্ষণশীল পাকিস্তানে বহু নারী সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ওই সহিংসতার মাত্রা বদ্ধি পাচ্ছে। দেশটিতে নারীদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে দেখা হয় এবং সেখানে পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে কোনো আইন নেই।
নারী অধিকার রক্ষায় ভালো অগ্রগতি সত্ত্বেও মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, পুলিশ ব্যাপকসংখ্যক মামলা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে বাতিল করে দিচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে খুনীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারকে আরো বেশী নজর দিতে হবে।
পাকিস্তানে হিউম্যান রাইটস কমিশনের বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়, পারিবারিক মর্যাদা রক্ষার নামে অন্তত ৯৪৩ মহিলা হত্যা করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৯৩ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
্এতে বলা হয়, এদের মধ্যে ৭ খৃষ্টান ও ২২ হিন্দু নারী হত্যার শিকার হয়েছেন।
কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, ২০১০ সালে পারিবারিক সম্মান রক্ষায় এ ধরনের ৭৯১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
২০১১ সালে প্রায় ৫৯৫ জন মহিলাকে ‘অবৈধ সম্পর্কের’ অভিযোগে হত্যা করা হয়েছে এবং ২১৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে বিনা অনুমতিতে বিয়ে করার জন্য।
কমিশন জানায়, অনেক নারীকে হত্যার আগে ধর্ষণ অথবা গণধর্ষণ করা হয়েছে। বেশীর ভাগ নারীকে তাদের ভাই স্বামীরা হত্যা করেছে।
রিপোর্ট বলা হয়, নিহত ৯৪৩ জনের মধ্যে মাত্র ২০ জনকে তাদের মৃত্যুর আগে চিকিৎসা সুবিধা দেয়া হয়।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি সত্ত্বেও মানবাধিকার কর্মীরা নির্যাতনের হাত থেকে নারীদের সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে আইন পাস করায় পার্লামেন্টের প্রশংসা করেছে।
মানবাধিকার গ্র“প বলেছে, নারীর প্রতি সহিংসতা, হেনস্থা ও বৈষম্যের ব্যাপারে সুবিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আরো পদক্ষেপ নিতে হবে।
গত বছর বেলজিয়াম আদালত এক পাকিস্তানী পরিবারের চার সদস্যকে তাদের মেয়েকে হত্যার অভিযোগে সাজা প্রদান করেছে। তাদের অভিযোগ ওই মেয়ে পারিবারিক উদ্যোগে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বেলজিয়ামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করেছে।