ওয়াশিংটন, ১৩ এপ্রিল (বাসস/এএফপি) : যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা উত্তর কোরিয়ার ব্যর্থ রকেট উৎক্ষেপণের ঘটনাকে একটি ‘উস্কানিমূলক কাজ’ আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানিয়েছে। তারা এই ঘটনাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার প্রধান মিত্র চীন নীরবতা পালন করছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার রকেট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে তার প্রতিশ্র“তি ভঙ্গ ও এশিয়ার নিরাপত্তা বিঘিœত করেছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কার্নি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া উস্কানিমূলক আচরণ ও অস্ত্রের পেছনে অর্থ ব্যয় করে নিজেকে বিশ্ব থেকে আরো বিচ্ছিন্ন করে চলেছে, অথচ দেশটির মানুষ ক্ষুধার্ত রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ব্যর্থ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার উস্কানিমূলক আচরণ আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি, আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন ও দেশটির সাম্প্রতিক প্রতিশ্র“তি লংঘন।’
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিম সাং-হোয়ান বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার রকেট উৎক্ষেপনের ঘটনা জাতিসংঘ প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লংঘন। এটি একটি উস্কানিমূলক আচরণ, যা কোরীয় উপদ্বীপ ও উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় এশিয়ার শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।’
জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ওসামু ফুজিমুরা বলেন, ‘ব্যর্থ হলেও এটা জাপান ও অন্যান্য দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লংঘন।’
উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কোন মন্তব্য করেনি।
জি-আট-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর কোরিয়াকে নিন্দা জানিয়েছেন।
জি-আট জানায়, ‘আমরা ভবিষ্যতে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ব্যবহার অথবা কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি অবনতি ঘটায় এ ধরনের কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকার জন্য উত্তর কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ এই ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন। তিনি একে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার সুস্পষ্ট লংঘন হিসেবে অভিহিত করে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
জার্মানীর পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুইডো ওয়েস্টারওয়েল রকেট উৎক্ষেপনের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এটা আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের লংঘন এবং এর ফলে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে।’
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড বলেন, ‘এই উৎক্ষেপনের ঘটনাটি উস্কানিমূলক ও বিপজ্জনক।’
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্তি নাতালেগাওয়া বলেন, ‘এই ক্রান্তিকালে সকল পক্ষকে শান্ত থাকা ও সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি।’