Apr 20, 2014, 2:24 pm (BST)

সংবাদ শিরোনাম

জাতীয় সংবাদ : ** আইটি প্রশিক্ষিত ১ লাখ যুবককে সনদ দেয়া হবে ** মহাস্থানগড় বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার অপেক্ষায় : সংস্কৃতি মন্ত্রী **বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় শিক্ষার্থীদের কাজ করতে হবে : ঢাবি উপাচার্য**   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : *এবার লোকসভা নির্বাচনে অপরাধী প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে* পাকিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪২ জনের মৃত্যু *ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বন্দুকযুদ্ধ, নিহত ৪*   |   বাসস প্রধানমন্ত্রী : * নতুন প্রজন্মের প্রতি বিজ্ঞান চর্চার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর *   |    অথর্নীতি : * বরগুনায় চাষে উৎপাদিত ও সামুদ্রিক মাছের আহরণ উপকূলে মাছের প্রাচুর্য্যতা বহাল রেখেছে*   |    জাতীয় সংবাদ : *দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে : বান কী-মুন *বরেণ্য কন্ঠশিল্পী বশির আহমেদের মৃত্যুতে স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকারের শোক * সঙ্গীত শিল্পী বশির আহমেদের ইন্তেকাল *মাঝারী ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে *   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : *মোদি বিরোধীদের উচিত পাকিস্তান চলে যাওয়া : গিরিরাজ সিং *এভারেস্টে ভয়াবহ দুর্ঘটনা : দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় উদ্ধার কাজ স্থগিত *কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে তুই-তোকারি করলেন মমতা *দক্ষিণ কোরিয়ায় ফেরি দুর্ঘটনা ॥ আরো ১০ লাশ উদ্ধার*   |    বিভাগীয় সংবাদ : * নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা : গয়েশ্বরসহ তিনজনকে অব্যাহতি*হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা *পার্বত্যাঞ্চলে বাঁশের চারা তরকারি হিসেবে ব্যবহার : ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন * ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা *   |   খেলাধুলার সংবাদ : *মেসির সমর্থনে বার্সেলোনা সভাপতি* নিজের বিশ্ব রেকর্ড ভাঙ্গতে চান বোল্ট * ক্রিকেট লিজেন্ড হানিফ মোহাম্মদ হাসপাতালে ভর্তি * বিয়ে করলেন শ্রীলংকান ওপেনার কুশল সিলভা * বোলারদের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে আসছে *   |   
প্রচ্ছদ | যোগাযোগ | Print
 
 
 
আবহাওয়া
 
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত
 
নামাযের সময়
 
 
 
গোলাহাটের নৃশংসতম গণহত্যা : যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আশায় ৪৩৭ শহীদের স্বজনরা
 
॥ মামুন ইসলাম ॥
সৈয়দপুর (নীলফামারী), ৫ ডিসেম্বর (বাসস) : বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১৩ জুন নীলফামারী জেলার অবাঙ্গালী অধ্যুষিত সৈয়দপুর শহরের অদূরে গোলাহাটে ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়।
স্থানীয় অবাঙ্গালীদের (বিহারী) সহায়তায় পাক হানাদাররা বাহিনী প্রতারণার ফাঁদ পেতে মাড়োয়ারী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী ও শিশুসহ ৪৩৭ জনকে হত্যা করে। এরপর খানা-খন্দকে লাশ ফেলে মাটি চাপা দেয়।
দেশমাতৃকার স্বাধীনতা অর্জনে নিরপরাধ এসব শহীদের বেঁচে থাকা স্বজনরা ৪০ বছর আগে ঘটে যাওয়া নৃশংসতার বর্ণনা দিতে গিয়ে ডুকরে কেঁদে ওঠেন। সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেরই স্মৃতি লোপ পেয়েছে।
এসব শহীদ পরিবারের বেঁচে থাকা এক সদস্য হচ্ছেন নিরঞ্জন কুমার আগারওয়াল নিজু (৫০)। প্রজন্ম ৭১-এর সৈয়দপুর শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি গোলাহাটে ঘটে যাওয়া গনহত্যার প্রত্যক্ষদর্শীও।
বাবা মাড়োয়ারী ব্যবসায়ী রামেশ্বর লাল আগারওয়াল, তিন চাচা, চাচাতো ভাই ও তাদের বৌ-বাচ্চাসহ নিজুর পরিবারের নয়জন সদস্য গোলাহাটের গণহত্যায় শহীদ হন। অনেক পরিবারের সকল সদস্যকেই সেদিন হত্যা করা হয়।
সম্প্রতি গোলাহাট বধ্যভূমিতে সৈয়দপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার একরামুল হক, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও সৈয়দপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র জিকরুল হকের উপস্থিতিতে নৃশংসতম এ গণহত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে নিজু আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
তখনকার মুসলিম লীগ নেতা এবং পিস কমিটির চেয়ারম্যান ইজাহার আহমেদ (বর্তমানে সৈয়দপুরে), তার ছোট ভাই নেছার আহমেদ (এখন পাকিস্তানে), তৎকালীন এনএসএফ নেতা তৌকির আহমেদ কেনেডি (বর্তমানে সৈয়দপুরে) এবং আরো অনেকের নেতৃত্বে পাক বাহিনী ১৯৭১ সালের ১ জুন ১৮৫ জন মাড়োয়ারী-হিন্দুকে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্টে ধরে নিয়ে যায়। এদের সবাই ছিলেন পুরুষ।
এরপর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর মেজর গুলের নির্দেশে তাদেরকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর সংস্কার এবং মাটিকাটার কাজে লাগিয়ে নির্যাতন চালানো হতে থাকে। কয়েকদিন পর জঘন্য এক ফন্দি আটেন মেজর গুল। আটক ব্যক্তিদের ডেকে তিনি বলেন, তাদেরকে সীমান্তবর্তী হলদিবাড়ি রেলস্টেশন দিয়ে ভারতে পাঠানো হবে।
কথামত পরদিন সকাল ৬ টার দিকে আটক ১৮৫ জনকে ৪-৫ টি ট্রাকযোগে ক্যান্টনমেন্ট থেকে সৈয়দপুর রেল ষ্টেশনে নেয়া হয়। সেখানে গিয়ে ভারতে পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রতি দিয়ে প্রত্যেককে বাড়ী গিয়ে পরিবার-পরিজনসহ দ্রুত রেল ষ্টেশনে ফিরতে বলা হয়। এ কথা শুনে কিছুটা আনন্দচিত্তে তারা বাড়ী ছুটে যান এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বাড়ী থেকে স্ত্রী-পুত্র-কন্যা-শিশু সন্তানসহ ৪৪৭ জন রেল ষ্টেশনে ফেরেন।
অশ্রসজল নেত্রে নিজু জানান, হানাদার বাহিনী এবং অবাঙ্গালী বিহারীরা তার সামনেই পুরুষদের দুটি এবং নারী-শিশুসহ মহিলাদের ভিন্ন দুটি বগিতে তুলে সকল জানালা-দরজা বন্ধ করে। সকাল ৬/৭টার দিনে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। ঘটনাচক্রে তিনি ট্রেনটিতে না উঠলেও পেছনে পেছনে যেতে থাকেন। এসময় ষ্টেশন থেকে দুকিলোমিটার দূরে রেললাইনের কালভার্টের ওপর গোলাহাট নামক স্থানে ট্রেনটি থেমে পড়ে। দূর থেকে এ দৃশ্য দেখে তিনি হাঁটার গতি বাড়ান এবং ট্রেনটি থেকে কিছুটা দুরত্বে দাঁড়ান। এসময় স্থানীয় গ্রামবাসীরা আশেপাশের ঝোঁপ-ঝাড়ের ভেতর লুকিয়ে পড়ে।
এরপর নিজু দেখতে পান বগির দরজা খুলে একজন করে আটক নারী-পুরুষ-শিশুকে টেনে-হেঁচড়ে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র ও রাইফেলের বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নৃশংসভাব হত্যা করা হচ্ছে। ছোট শিশুরা এসময় চিৎকার করায় তাদেরকে রেল লাইনের ওপর আছাড় দিয়ে কিংবা ওপরে ছুঁড়ে দিয়ে নীচে বেয়নটে ধরে হত্যা করা হয়। সেখানে ৪৩৭ জন শাহাদত বরণ করেন। এসময় ১০ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
নিজু বলেন, আমার মা শান্তি দেবী (৭৫) সেদিন ট্রেনটি ফেল করায় এখনো জীবিত থাকলেও বিগত ৪০ বছর ধরে জীবন্মৃত। সেদিনের নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে। বাকশক্তিও হারিয়েছেন। কাউকে দেখলে শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন।
সৈয়দপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার একরামুল হক, সাবেক কমান্ডার জিকরুল হক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সাবেক এমপি আলীম উদ্দিন, সমশের আলী বসুনিয়া, অধ্যাপক মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, শামসুল হুদা কদমসহ অনেকে গোলাহাট গণহত্যার এরকম ভয়ংকর বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগপ্রবন হয়ে পড়েন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সালাহ উদ্দিন বেগ বাসসকে জানান, তার শহীদ পিতা এসএম মাহতাব বেগ তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। পাক হানাদার বাহিনী এবং বিহারীরা সৈয়দপুরে বাঙ্গালীদের অবরোধ করলে তার পিতা তাদেরকে উদ্ধারের লক্ষ্যে বন্দুক নিয়ে সৈয়দপুরের দিকে রওনা হন।
এসময় পিস কমিটির চেয়ারম্যান ইজাহার আহমেদের নেতৃত্বে বিহারীরা তার পিতাকে হত্যার পর শিরচ্ছেদ করে সৈয়দপুরে উল্লাস মিছিল করে। তিনি এসব যুদ্ধাপরাধীর দ্রুত বিচার এবং ফাঁসি দাবী করেন।
নিজু এবং সালাহ উদ্দিন বেগ বলেন, দেরীতে হলেও মুক্তিযুদ্ধের পরে বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, আমরা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছি, সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর হতে দেখে মরলেও শান্তি পাবো।
সৈয়দপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার একরামুল হক ও সাবেক কমান্ডার জিকরুল হক জানান, এ বছরের প্রথমার্ধে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পক্ষ থেকে আর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কাছে জীবিত ৮৪ জন যুদ্ধাপরাধীর তালিকা জমা দেয়া হয়েছে। এছাড়া সৈয়দপুরের অনেক চি‎িহ্নত যুদ্ধাপরাধী ইতিমধ্যে মৃত্যুরণ করেছে।
এই তালিকা অনুযায়ী এখনো কোন যুদ্ধাপরাধী আটক না হওয়ায় সৈয়দপুরের মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সমর্থকরা চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তারা অবিলম্বে এসব যুদ্ধাপরাধীকে বিচারের আওতায় আনার এবং শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে গোলাহাট বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবী জানান।
 
 
 
প্রচ্ছদ | যোগাযোগ | Print
সার্বিক তত্ত্বাবধানে : বাসস আই,টি বিভাগ এবং বাংলাদেশ অনলাইন লিমিটেড