Apr 24, 2014, 9:38 am (BST)

সংবাদ শিরোনাম

জাতীয় সংবাদ : এপিআই শিল্পপার্কের উন্নয়ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ * পল্টন মোড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় বেবীট্যাক্সি চালক নিহত, আহত ৪ * বাংলাদেশ ইউনিসেফ এক্সিকিউটিভ বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত   |    বিভাগীয় সংবাদ : মুন্সীগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ * মাগুরায় কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন    |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : দ. সুদানের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন* ২ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বিনিময়ে মুক্ত জাপানের জাহাজ * ইউক্রেনে ৫০০ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে কানাডা   |   
প্রচ্ছদ | যোগাযোগ | Print
 
 
 
আবহাওয়া
 
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত
 
নামাযের সময়
 
 
 
কমিউনিটি ভিত্তিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা : কুষ্টিয়া পৌরসভা সেবার মান বাড়িয়ে দিয়েছে
 
॥ নূর আলম দুলাল ॥
কুষ্টিয়া, ২ এপ্রিল (বাসস): কয়েক বছর আগেও কুষ্টিয়া হাউজিং এলাকায় নাকে রুমাল দিয়ে কিংবা নাক বন্ধ করে যাতায়াত করতে হতো। বাড়ির পেছনে খোলা পায়খানা থেকে সারাক্ষণ দুর্গন্ধ ছড়াতো। ল্যাট্রিন ব্যবহার নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো, কুষ্টিয়া পৌরসভার হাউজিং এলাকার মতোই বিভিন্ন এলাকায় ছিল এমন চিত্র। কিন্তু কমিউনিটি বেজড স্যানিটেশন বা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা চালুর ফলে এই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়ায় না। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
বিশ্ব ব্যাংকের আওতায় ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন প্রোগ্রামের (ডব্লিউএসপি) সহায়তায় কুষ্টিয়া পৌরসভা সম্প্রতি সাংবাদিকদের জন্য আয়োজন করেছিল ননিন্দ অনুসন্ধন কর্মশালা। পিআইবির (প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ) সহযোগিতায় কর্মশালাটি ছিলো পারস্পরিক শিখন কর্মসূচির আলোকে নন্দিত অনুসন্ধানের মাধ্যমে ভালো অনুশীল চিহ্নিত করা। এতে জেলায় কর্মরত জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্র এবং ইলেকট্রিক মিডিয়ার প্রায় অর্ধশত সাংবাদিক অংশ নেন।
কর্মশালার পর সরেজমিনে কুষ্টিয়া হাউজিং এলাকায় গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেছিলেন আগেকার স্যানিটেশনের করুণ হাল। তারা জানিয়েছেন, ১৯৬৭ সালে এলাকার প্রায় ১২শ পরিবারের জন্য হুমকিস্বরূপ। প্রত্যেকটি পরিবারের ল্যাট্রিন সংযোগ বাড়ির পেছন দিকের ভাঙ্গা ড্রেনের সঙ্গে থাকায় এলাকায় দুর্গন্ধময় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ছিলো। বর্তমানে পৌরসভার অধীনে ইউজিএইচপি ও স্টিপপ-২ প্রকল্পের আওতায় এলাকায় ৮শ ৫০টি পরিবারের জন্য ২,৫৫৭.১৪ মিটার ড্রেন, ৪৫টি সেপটিক ট্যাংক, ৪৪টি সোকওয়েল ও ২১০টি ইন্সপেকশন পিট নির্মাণ করে পয়:নিষ্কাশনে আধুনিক করা হয়েছে। এতে এককভাবে নয়, দলভিত্তিক উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন সেবার আওতায় এসেছেন সবাই।
কর্মশালায় কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রধান প্রধান ১৫টি ভালো অনুশীলন চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে পয়ঃনিষ্কাশনসহ আরও ৪টি সেবায় কুষ্টিয়া পৌরসভার অধিকাংশ মানুষ উপকৃত হয়েছেন বলে চিহ্নিত করা হয়। অন্যগুলো হলো : বর্জ্যব্যবস্থাপনা, প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়, নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য কারিগরি ট্রেডের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানা যায়, শহরে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ মেট্রিক টন বর্জ্য তৈরি হয়। প্রত্যেকটি ঘর থেকে বর্জ্য সংগ্রহের পর তা স্থানান্তর করা হয় তিনটি ট্রান্সফার স্টেশনে। এসব বর্জ্য দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি কম্পোস্ট প্লান্ট। এদিকে বাড়াদি ভাগাড় মাঠে নির্মিত হতে চলেছে উন্নত ব্যবস্থাপনা।
প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্মসূচিতে হতদরিদ্র শিশুদের সরকারি ও বেসরকারি ভালো ভালো স্কুলে ১ম শ্রেণীতে ভর্তির দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, পোশাক ও নাস্তা দেয়া হয়।
নাগরিক স্বাস্থ্যসেবাকে নিশ্চিত করতে নির্মিত হয়েছে তিনটি নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। এ ছাড়াও আছে ৮৪টি স্যাটেলাইট ক্লিনিক। এখানে ৬ হাজার হতদরিদ্র পরিবারকে রেড কার্ড দেয়া হয়েছে। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রসব-পূর্ববর্তী, প্রসব-পরবর্তী ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়।
কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী জানান, পৌরসভায় নাগরিক সেবাকে উত্তরোত্তর বৃদ্ধির জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এ ক্ষেত্রে পৌর পরিষদ ও সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। তবে আগে জনহিতকর ও জনগুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য কোন বরাদ্দ ছিলো না। স্টিপপ১-২সহ বিভিন্ন প্রকল্প আসার ফলে কমিউনিটি বেজড ভিত্তিক পয়ঃনিষ্কাশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নত সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে।
 
 
 
প্রচ্ছদ | যোগাযোগ | Print
সার্বিক তত্ত্বাবধানে : বাসস আই,টি বিভাগ এবং বাংলাদেশ অনলাইন লিমিটেড