কুড়িগ্রাম, ১৭ সেপ্টেম্বর (বাসস) : ‘নতুন পোশাক কেউ দিলে বাবার কথা মনে পড়ে। বাবা বেঁচে থাকলে কত জামা কাপড় কিনে দিতো। কত আদর করতো। বাবা বেঁচে নেই। শিশু পরিবারের বড় ভাইয়ারা আমাদের বাবার মতো দেখাশোনা করেন’।
নতুন পোশাক পেয়ে এভাবেই অনুভূতি ব্যক্ত করেন কুড়িগ্রাম শিশু পরিবারের সদস্য শাহপরাণ ইসলাম। ৮ বছর ধরে এই শিশু পরিবারে আশ্রিত আছে সে। তার মতো ৭৭ জন পিতৃ-মাতৃহীন দরিদ্র অনাথ শিশু সোমবার নতুন পোশাক পেয়ে অভিভুত হয়। তাদের চোখে মুখে ফুটে ওঠে উচ্ছ্বাস। প্রত্যেক শিশুকে দেয়া হয় শার্ট-প্যান্ট, জুতা ও মোজা।
কুড়িগ্রাম আসনের সংসদ সদস্য মো. জাফর আলী ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিশুদের নতুন পোশাক দেন। এ সময় জেলা তথ্য অফিসার নুরুন্নবী খন্দকার, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান বাবু, প্রেসক্লাব সভাপতি শফিখান উপস্থিত ছিলেন।
শিশু পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে ‘কেয়ার প্রটেক্ট সেল্টার’ নামে শিশু পরিবারটির যাত্রা শুরু হয়। পরে ’৮৬ সালে নামকরণ করা হয় সরকারি শিশু সদন। আর ১৯৯৩ সালে ৩ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত শিশু পরিবারটির নামকরণ করা হয় কুড়িগ্রাম সরকারি শিশু পরিবার। এখানে পিতৃহীন অথবা পিতৃ-মাতৃহীন ১০০ অনাথ শিশুর আশ্রয়ের ব্যবস্থা আছে। বর্তমানে আশ্রিত আছে ৭৭ জন। প্রথম শ্রেণী থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যস্ত লেখাপড়ার ব্যবস্থা আছে।
শিশুদের স্বাবলম্বী ও শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে শিশুরা এরপর বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে পড়তে চাইলে তাদের লেখাপড়ার ব্যয়ভার বহন করা হয় সরকারিভাবে।
শিশু পরিবারের সদস্য রিজু, হাফিজুর, রায়হানের বাবা নেই। শিশু পরিবারেই দরিদ্র ঘরের এসব শিশুর বাস। অভাবের কারণে মা তাদের স্বাদ আহলাদ পূরণ করতে পারেননা। তাই নতুন জামা পেয়ে তারা খুব খুশি বলে জানায়। শিশু পরিবারের বড় ভাইয়া আবু তালেব জানান, অনাথ শিশুরা খেলাধুলা, গান বাজনা করতে পছন্দ করে। সরকারি শিশু পরিবারের উপ তত্বাবধায়ক হাবিবুর রহমান জানান, এমপি জাফর আলী শিশুদের নতুন পোশাক দেয়া পাশাপাশি শিশু পরিবারের জন্য একটি ফ্রিজ ও একটি কম্পিউটার দিয়েছেন।
এমপি জাফর আলী বলেন, প্রতি বছর এখানকার অনাথ শিশুদের নতুন পোশাক দেয়া হবে।
তিনি সমাজের বিত্তশালীদের এ ব্যাপারে সহায়তা করার আহবান জানান। |