ঢাকা, ২ মার্চ (বাসস) : অবশেষে জয়ের দেখা পেল ব্রাদার্স। গ্রামীণফোন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে তারা শক্তিশালী শেখ রাসেলকে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট লাভ করেছে। শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সৈয়দ নাঈমুদ্দিনের শিষ্যরা ১-০ গোলে হারায় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে। ব্রাদার্সের হয়ে জয়সুচক গোলটি করেছেন নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার চিগোজি কিংন্সলে।
এর আগে প্রথম ম্যাচে আরামবাগ ও দ্বিতীয় ম্যাচে মোহামেডানের কাছে পরাজিত হয়েছিল গোলাপী জার্সিধারীরা। তবে এসময় অনুপস্থিত ছিলেন কোচ নাঈমুদ্দিন। তিনি ফিরে আসাতেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। প্রথম দুই রাউন্ডে দুর্বল দুটি দলের কাছে হারা ব্রাদার্স তৃতীয় ম্যাচেই সবচেয়ে তিন শক্তিশালী দলের কাছ থেকে পয়েন্ট কেড়ে নিয়েছে।
ম্যাচের ২৯ মিনিটে গোলের প্রথম সুযোগটি তৈরী করেছিল শেখ রাসেল। বক্সে ইয়ামিন আহমেদ পোস্ট লক্ষ্য করে শট নিলে ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল পেয়ে যান আনোয়ার। তার শট জালে প্রবেশের আগমূহুর্তে হাত দিয়ে পাঞ্চ করে রক্ষা করেন গোলকিপার উত্তম। ৩৬ মিনিটে সুযোগ নষ্ট করে ব্রাদার্সও। গোলকিপার বিপ্লবকে একা পেয়েও বল উড়িয়ে মারেন ব্রাদার্সের নাইজেরিয় স্ট্রাইকার কিংন্সলে।
বিরতির পর প্রথম আঘাত হানে শেখ রাসেলই। কিন্তু বুকোলার পাস থেকে ইউসুফের বক্স থেকে নেওয়া শট জালের নাগাল পায়নি। ৭৩ মিনিটে আরো একবার ভাগ্যবিমুখ হয় শেখ রাসেল। বক্সের কাছ থেকে আনোয়ারের শট সাইডপোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়। ৭৯ মিনিটে বক্সে জামাল হোসেনের ক্রসে আসা বলে হেড করে ব্রাদার্সকে জয়সূচক গোল উপহার দেন নাইজেরিয়া স্ট্রাইকার কিংন্সলে। এ জয়ে পাঁচ ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় ষষ্ঠস্থানে উঠে এসেছে ব্রাদার্স। সমান সংখ্যক ম্যাচে আট পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে শেখ রাসেল।
ব্রাদার্সের কাছে এই হারের কারণ হিসেবে শেখ রাসেলের কোচ মারুফুল হক কাঠ গড়ায় দাঁড় করিয়েছেন খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসকে। তিনি বলেন, ‘মোহামেডানের বিপক্ষে ম্যাচ জয়ের পর খেলোয়াড়রা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ছিল। ব্রাদার্সের বিপক্ষে শক্ত ম্যাচের প্রস্তুতি আমাদের ছিল না। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই আমাদেরকে ডুবিয়েছে। এছাড়া বকুলা, ইউসুফ, মোরো ও আনোয়ার ব্যথার জন্য চারদিন অনুশীলনে ছিলেন না। সেটাও হারের অন্যতম একটি কারণ।’
মারুফুল বলেন, ‘পুরো ম্যাচেই আমরা ভাল খেলেছি। বল আমাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। অথচ ২/৩টির বেশি গোলের সুযোগ তৈরী করতে পারেনি ছেলেরা। আর ব্রাদার্স একটা সুযোগ পেয়েই কাজে লাগিয়েছে।’
এদিকে বিজয়ী দলের কোচ সৈয়দ নাঈমুদ্দিন বলেন, ‘প্রতিপক্ষ ভাল খেলেছে। কিন্তু গোলের সুযোগ কাজে লাগানোই ছিল গুরুত্বপূর্ণ কাজ। যা আমার ছেলেরা করে দেখিয়েছে।’ |