ঢাকা, ১৯ মার্চ (বাসস) : মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির পরবর্তী তারিখ ২৫ মার্চ।
আন্তর্জাাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আজ অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানির এ তারিখ ধার্য করে।
আজ সোমবার আসামী পক্ষের তাদের বক্তব্য দেয়ার কথা থাকলেও ট্রাইব্যুনালের এক সদস্য বিচারক একেএম জহির আহমেদ অনুপস্থিত থাকায় শুনানি পিছিয়ে ২৫ মার্চ ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।
আজ গোলাম আযমকে প্রিজন সেল থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এর আগে গত ১৫ ফেব্র“য়ারি বুধবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়।
গোলামের বিরুদ্ধে ১৯১ পৃষ্ঠার অভিযোগ উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের দেশী-বিদেশী ভিবিন্ন ধরনের সিডি ভিসিডি এবং প্রামাণ্য দলিল হিসেবে পত্রিকার কাটিং এবং এসবের সঙ্গে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ উপস্থাপন শেষ হয়।
প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে ১৯৭৩ এর ৩ (২) ৪এর ১ ও ২ ধারা অনুযায়ী অভিযোগ গঠনের আবেদন পেশ করেছি।
জামায়াতের এ নেতা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত শীর্ষ ব্যক্তি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি জামায়াতের আমীর ছিলেন। একই সাথে শান্তি কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যে কারণে তাকে সুপিরিয়র ধরে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আবেদন করা হয়।
গত ১১ জানুয়ারি গোলাম আযম ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জামিন আবেদন জানায়। এ আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দেয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মোট ৬২টি সুনিদির্ষ্ট অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে।
৬২টি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে হানাদার বাহিনীকে সহায়তা ও তাদের সঙ্গে চক্রান্ত করার জন্য ছয়টি, তাদের সঙ্গে পরিকল্পনার তিনটি, উস্কানি দেয়ার ২৮টি, তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ২৪টি এবং ব্যক্তিগতভাবে হত্যা ও নির্যাতনের একটি অভিযোগ।
এর আগে ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর গোলাম আয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করেন তদন্ত কর্মকতারা। পরে কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন। মোট ৩৬০ পৃষ্টার তদন্ত প্রতিবেদনের পাশাপাশি ১০ হাজারর পৃষ্টার নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়।