Apr 16, 2014, 2:09 pm (BST)

সংবাদ শিরোনাম

জাতীয় সংবাদ : ** আগামীকাল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস **যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে ভুল রাজনৈতির পথে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান : তথ্যমন্ত্রী **বীরত্বকে কোনদিনও ইতিহাস বিকৃতির কালিমা দিয়ে ঢাকা যায় না : ওবায়দুল কাদের **   |   বাসস রাষ্ট্রপতি : ** তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার পাশাপাশি জাতিগঠনমূলক কাজে অবদান রাখবে : রাষ্ট্রপতির আশাবাদ **   |   খেলাধুলার সংবাদ : ** ১৯৯৬ বিশ্বকাপ বিজয়ী শ্রীলংকা দলের স্টাফদের যথাযথ সম্মান দেয়া হয়নি : হোয়াটমোর **   |    জাতীয় সংবাদ : **তারেক ও তার চেলাচামুন্ডরা ইতিহাস বিকৃতি করতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন : লতিফ সিদ্দিকী **রাজনীতিতে সংকীর্ণমনারা মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে মিথ্যাচার করছে : ঢাবি উপাচার্য **একটি হতাশাগ্রস্ত রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করছে : নাসিম **   |   বাসস প্রধানমন্ত্রী : ** গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগের আহবান প্রধানমন্ত্রীর **প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় নিহত আরো ৫৩ জনের স্বজনেরা আর্থিক সহায়তা পেলেন **   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : ইউক্রেন গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে : পুতিন   |    বিভাগীয় সংবাদ : চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত * সরকারি আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রম বিষয়ক গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় সভা * মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে খুলনায় কর্মসূচি গ্রহণ   |   
প্রচ্ছদ | যোগাযোগ | Print
 
 
 
আবহাওয়া
 
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত
 
নামাযের সময়
 
 
 
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করার যেকোন ষড়যন্ত্র রুখতে ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
 
ঢাকা, মার্চ ২২ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ইসলামের মহান আদর্শকে ভুলুণ্ঠিত করে যারা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে কাজ করেছিল তাদের বিচার বাধাগ্রস্ত করার যেকোন ষড়যন্ত্র রুখতে প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ নাগরিককে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় দোসররা ইসলামের মহান আদর্শকে ভুলুন্ঠিত করেছিল। সেই স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া এখন দ্রুত এগিয়ে চলছে। কিন্তু একটি মহল এ বিচার প্রক্রিয়া নসাৎ করার জন্য ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে এবং ইসলামের শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির মর্মবাণী সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য হচ্ছে ইসলামের মৌলিক আদর্শ, বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ, পরমত সহিষ্ণুতা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে ইসলামী মূল্যবোধ ও নীতিমালা বাস্তবায়ন করা এবং সংস্কৃতি, চিন্তা, বিজ্ঞান ও সভ্যতার ক্ষেত্রে ইসলামের অবদানের উপর গবেষণা পরিচালনা করা। এসব লক্ষ্যের অনুসরণে জাতির পিতার জীবন ও ধর্ম-দর্শনের প্রতিফলন ঘটেছে।
ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো: শাহজাহান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ধর্মসচিব হাবিবুল আওয়াল এবং ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মো: আফজাল বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা ইসলামের নামে স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে সবসময়ই সোচ্চার ছিলেন। তিনি ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনের আগে এক ঐতিহাসিক বেতার ভাষণে বলেছিলেন, আমরা ইনসাফের ইসলামে বিশ্বাসী। আমাদের ইসলাম হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর ইসলাম যে ইসলাম জগতবাসীকে শিক্ষা দিয়েছে ন্যায় ও সুবিচারের অমোঘ মন্ত্র।
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের শাসনতন্ত্র উপস্থাপনকালে গণপরিষদে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধুর ভাষণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ভাষণে জাতির পিতা বলেছিলেন, ২৫ বছর আমরা দেখেছি ধর্মের নামে জুয়াচুরি, ধর্মের নামে শোষণ, ধর্মের নামে বেঈমানী, ধর্মের নামে অত্যাচার, ধর্মের নামে খুন, ধর্মের নামে ব্যভিচার এই বাংলাদেশের মাটিতে এসব চলেছে। ধর্ম একটি পবিত্র জিনিস। পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় যে অবদান রেখে গেছেন, সমকালীন মুসলিম বিশ্বে এর দৃষ্টান্ত বিরল। জাতির পিতা মদ, জুয়া, লটারী, ঘোড়-দৌড় ইত্যাদি ইসলাম বিরোধী কাজ আইন করে নিষিদ্ধ করেন। সরকারি অনুষ্ঠানে বিদেশীদের মদ পরিবেশন বন্ধ করেন।
জাতির পিতা কাকরাইল মসজিদ সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করেন। বিশ্ব ইজতেমার স্থানটিও বঙ্গবন্ধু বরাদ্দ করেন। রাশিয়াতে তাবলীগ জামাত যেতে পারতো না। বঙ্গবন্ধুর একান্ত চেষ্টায় ১৯৭৩ সালে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ থেকে তাবলীগ জামাত রাশিয়াতে প্রবেশের সুযোগ পায়।
বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর এ উদ্যোগের ফলে আজ মাদ্রাসা পাস করা ছাত্র-ছাত্রীরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে।
বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই সর্বপ্রথম বেতার ও টেলিভিশনে অধিবেশনের শুরু ও সমাপ্তিতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা হয় বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কম খরচে হজ্জের ব্যবস্থা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনকল্যাণে কাজ করে। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে সরকারের সময় আমরা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জন্য আগারগাঁওয়ে জমি বরাদ্দ দেই। ফাউন্ডেশনের ৪৩টি জেলা কার্যালয়কে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করি। ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করি। হাজীদের জন্য হজ ক্যাম্প, বায়তুল মোকাররম মসজিদের মিনার, চট্টগ্রামে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছি এবং আমরাই মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প চালু করি।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর ইসলামের প্রচার ও প্রসারে তাঁর সরকার বিভিন্নমুখী কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে। দেশব্যাপী মসজিদ, ঈদগাহ ও গোরস্তান সংস্কার করছে। ২ হাজার নতুন মসজিদ পাঠাগার স্থাপন, ৬৪টি জেলা মডেল পাঠাগার, ৪৭৭টি উপজেলা মসজিদ পাঠাগারসহ ৫ হাজার পাঠাগারে বই সরবরাহ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষার আওতায় প্রতি বছর ১০ লাখেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য ১ হাজার ৫৩৬টি রিসোর্স সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রাক-প্রাথমিক, সহজ কোরআন ও বয়স্ক শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। পবিত্র কোরআন আরবী, বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় অনুবাদ এবং উচ্চারণ শোনা ও পড়ার জন্য ডিজিটাল ফর্মে রূপান্তর করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্তকরণ প্রকল্পের আওতায় বর্তমান সরকার ১ হাজার ৮০ জন ধর্মীয় নেতা এবং ১ হাজার ৫০ জন ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
তাঁর সরকারের আমলে প্রতি বছর হজ্জ যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১১ সালে আমরা ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রথমবারের মতো জেদ্দা হজ্জ টার্মিনাল বাংলাদেশের জন্য নিজস্ব প্লাজার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০১০ সালে হজ্জ ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ সৌদি কর্তৃপক্ষ আমাদের প্রশংসাপত্র দিয়েছে। ২০১১ সালে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫ হাজার ৬১৭ জন হজ্জ পালন করেছেন এবং এবছর ১ লাখ ২০ হাজার হজ্জযাত্রী হজ্জে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারিত করেছে। এ জন্য ২ হাজার ৯২৮টি পদ সৃজন করা হচ্ছে। ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টকে আরো তিন কোটি টাকা অনুদান দিয়ে এর মূলধন ২০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা কার্যক্রমকে জোরদার করা হয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ণের জন্য তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ৩০টি মডেল মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে, ১শটি মাদ্রাসায় ভোকেশনাল কোর্স চালু করা হয়েছে এবং বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ৩১টি মাদ্রাসায় ৪টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়েছে।
মায়ানমারের সাথে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের সমুদ্র সীমা নিষ্পত্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এই বিজয় দেশের জনগণের। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক অক্ষুণ রেখে আমরা আমাদের ন্যায়সঙ্গত সকল অধিকার আদায় করে যাব। এজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শিশুরা আমাদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ, আমাদের উত্তরাধিকার। ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা শিশু-কিশোরদেরকে প্রকৃত শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করবে এবং আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশুদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আসুন, আমরা সকলে মিলে বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ দেশে পরিণত করি। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলি।
 
 
 
প্রচ্ছদ | যোগাযোগ | Print
সার্বিক তত্ত্বাবধানে : বাসস আই,টি বিভাগ এবং বাংলাদেশ অনলাইন লিমিটেড