আঙ্কারা, ১২ এপ্রিল (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুরস্কে তাঁর তিন দিনের সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিন আজ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ গুলের সংগে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে সাক্ষাৎ করেছেন।
পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ এবং অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ নিরুৎসাহিত করণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ গুলের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য করে আমরা আমাদের সংবিধান সংশোধন করেছি।’ তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানে সংগ্রাম করছে।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্কের উল্লেখ করে বলেন, মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক বাংলাদেশের জনগণের কাছেও জনপ্রিয় নেতা।
শেখ হাসিনা ঢাকা-ইস্তাম্বুল সরাসরি ফ্লাইট চালু করার জন্য তুরস্ক সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি এক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানিতে শুল্ক কমানোর অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এ কারণে বাংলাদেশী তৈরি পোশাক তুরস্কে রফতানি প্রায় ২০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ কমপক্ষে তিনশ’ কোটি মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আবগারি শুল্ক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির এবং ভ্রাতৃপ্রতীম দুটি দেশের পারস্পরিক বন্ধুত্ব জোরদারে পদক্ষেপ গ্রহণের প্রশংসা করেন।
প্রেসিডেন্ট গুল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন, তার দেশের বড় বড় কোম্পানী বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সেক্টরে বিনিয়োগে আগ্রহী।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপমনি, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, সিলেটের মেয়র বদরুদ্দিন আহমেদ কামরান, এম্বাসেডর এট-লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ এম ওয়াহিদ উজ জামান, প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ ও কৃষি সচিব মঞ্জুর হোসেন উস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক পার্লামেন্টের স্পিকার চেমিল চিকের সঙ্গে পার্লামেন্ট হাউসে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয় নেতা সংসদীয় গণতন্ত্র জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরে আসার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানান।