Apr 17, 2014, 10:56 am (BST)

সংবাদ শিরোনাম

বিভাগীয় সংবাদ : চাঁদপুরে কৃষকদের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ   |   খেলাধুলার সংবাদ : মাদ্রিদকে কাপ শিরোপা এনে দিলেন বেল * কাপ ফাইনালে ডর্টমুন্ডের প্রতিপক্ষ বায়ার্ন   |    অথর্নীতি : ফরিদপুরে সাজনা চাষে লাভবান হচ্ছে কৃষক   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : ইউক্রেনে সেনা ঘাঁটিতে হামলা : ৩ হামলাকারী নিহত, আহত ১৩ * ভারতে লোকসভা নির্বাচনের পঞ্চম দফায় ১২ রাজ্যে ভোট গ্রহণ চলছে   |    জাতীয় সংবাদ : ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু   |   বাসস প্রধানমন্ত্রী : মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন   |   
প্রচ্ছদ | যোগাযোগ | Print
 
 
 
আবহাওয়া
 
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত
 
নামাযের সময়
 
 
 
সমৃদ্ধ জনগণ দেশের উন্নতি ও অগ্রগতিতে অবদান রাখতে পারে : প্রধানমন্ত্রী
 
আঙ্কারা, ১৩ এপ্রিল (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সমৃদ্ধ জনগণ দেশের উন্নতি ও অগ্রগতিতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
তিনি আজ এখানে আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়ে জনগণের ক্ষমতায়নর ওপর বক্তৃতাকালে বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জনগণ বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন শান্তি ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত শক্তিশালী গণতন্ত্রের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, ন্যায়বিচার, শান্তি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ অর্জনে জনগণকে সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করে দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য দূরীকরণে শিক্ষা জনগণের ক্ষমতায়নে প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে।
অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর প্রফেসর ড. কেমাল তালুগ বক্তৃতা করেন। সিনেট, অনুষদ সদস্য এবং শিক্ষার্থীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, কেবল শিক্ষা ও জ্ঞান জনগণকে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান অর্জনে সহায়ক হতে পারে, যা সামাজিক অগ্রগতি, সমতা, ন্যায়বিচার ও শান্তির জন্য অপরিহার্য।
তিনি বলেন, উপাদান ছয়টি হচ্ছে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা বিমোচন, বৈষম্য দূরীকরণ, সমাজের মূলস্রোতে অন্তর্ভুক্তকরণ, মানবসম্পদ হিসাবে গড়ে তোলা এবং সন্ত্রাস নির্মূল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি এই ছয়টি বিষয় একে অপরের ওপর নির্ভরশীল এবং সামগ্রিকভাবে তা নিরসন করতে হবে।
তিনি বলেন, এই বিশ্বাস থেকে আমি গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৬ তম অধিবেশনে জনগণের ক্ষমতায়ন শীর্ষক একটি প্রস্তাব পেশ করি, যা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।
শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে শান্তি অর্জনের জন্য গণতন্ত্রের বিকল্প নেই, উন্নয়নেরও তা পূর্বশর্ত এবং শান্তি, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার অনুশীলনের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক ও সামাজিকঅর্থনৈতিক কল্যাণের অধিকার এবং সমতা বিশেষ করে মহিলা, সংখ্যালঘু ও সুবিধাবঞ্চিতদের সম-সুযোগ লাভের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ন্যায়বিচার গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি মর্যাদাসম্পন্ন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পণ্ডিত ও অনুষদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতাদানের সুযোগ দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টরকে ধন্যবাদ জানান। এই বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে কামাল আতাতুর্ক প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে বর্তমানে প্রায় ৪০টি বৃত্তিমূলক ও ১১৪টি আন্ডার গ্রাজ্যুয়েট এবং ১১০টি গ্রাজ্যুয়েট কোর্সে প্রায় ৪৫ হাজার ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করছে।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে শত শত বছর ধরে বিদ্যমান বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ভ্রাতৃপ্রতীম সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, মুস্তফা কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে মুক্তিযুদ্ধে তুর্কি ভাইদের সাহায্যে বাংলার নারীরা তাদের অলংকার দান করেছিলেন।
ওই সময় আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তুর্কি জনগণের ঐতিহাসিক সংগ্রামের ওপর বেশ কয়েকটি কালজয়ী কবিতা ও সঙ্গীত রচনা করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে তা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল।
মুহুর্মুহু করতালির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তাঁর গর্বিত কন্যা।
বাংলাদেশের রাজনীতি এবং জনগণের অর্থনেতিক মুক্তির জন্য তাঁর সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই জনগণ মর্যাদার সংগে এবং মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে বাস করুক।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার ও আধা-স্বৈরাচারী শাসকরা আমাকে নির্বাসনে রেখে বারবার আমাদের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের নিরলস সংগ্রাম ও ব্যাপক ত্যাগের কারণে তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়েছে।
বৃহত্তর সামাজিক সাম্যতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ এসব কর্মসূচির সুফল পেতে শুরু করেছে এবং সারা বিশ্বে তা প্রশংসিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের জন্য অনুকরণীয় উন্নয়নের মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রগতিশীল ও বিশ্বায়নের যুগে জনগণের ক্ষমতায়নে আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)র যথাযথ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশ ও ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হওয়ার রূপকল্প গ্রহণ করেছে।
এর আলোকে তিনি বলেন, তাঁর সরকার শিক্ষা বিশেষ করে নারীশিক্ষা, স্থানীয় প্রশাসনে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং ধর্মনিরপেক্ষ মূলবোধ জোরদারের ওপর গুরত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, সেই সঙ্গে উপজাতি সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত, সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং তথ্য প্রযুক্তি ও দুর্যোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সন্ত্রাস ও চরমপন্থা নির্মূলের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এই সুযোগে জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির কথা উল্লেখ করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে গিয়ে বাংলাদেশের বহু উন্নয়ন প্রচেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এর পরও গত তিন বছরে বাংলাদেশ শতকরা ১০ ভাগ দারিদ্র্য হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছে।
 
 
 
প্রচ্ছদ | যোগাযোগ | Print
সার্বিক তত্ত্বাবধানে : বাসস আই,টি বিভাগ এবং বাংলাদেশ অনলাইন লিমিটেড