ঢাকা, ১৩ এপ্রিল (বাসস) : আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র হচ্ছে না।
তিনি আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের এক বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিং-এ এ কথা বলেন।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সভায় বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে যে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তা নাকচ করে দিয়ে হানিফ বলেন, তফসিল ঘোষণার পর এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যা নিয়ে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।
ব্যারিস্টার মওদুদ এ সভায় বলেন যে, ‘সরকার ডিসিসি নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে।’
ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে সরকার কিভাবে ষড়যন্ত্র করছে মাহবুব-উল-আলম হানিফ তা মওদুদ আহমেদের কাছে জানতে চান ।
তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের কোনো ঘটনা আমরা দেখছি না। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। আমরা ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে খুবই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি। এ কারণে আমরা ধারাবাহিকভাবে সভা করে যাচ্ছি।’
মওদুদ আহমদরাই অতীতে বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্র করেছেন উল্লেখ করে হানিফ বলেন, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যাদের জন্ম কেবল তারা এসব কথা বলতে পারে।
তিনি বলেন, ডিসিসি উত্তর ও দক্ষিণের নির্বাচনে এখনই কোনো মেয়র প্রার্থীকে আওয়ামী লীগ সমর্থন দেবে না। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্য থেকে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজিত হয়নি। দুই প্রার্থী ছিলো, তাদের একজন জয়ী হয়েছে।
চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বয়সের কারণে হয়তো তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ওই নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কমেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। আমরা তা করে জয়ী হয়েছি। আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
‘মামলা’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালত এবং নির্বাচন কমিশন উভয়েই স্বাধীন। আদালত কোনো নোটিস দিয়ে থাকলে তা নির্বাচন কমিশনই জবাব দেবে।
ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আহমদ হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কার্যনির্বাহী সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিন, সুজিত রায় নন্দী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম ও এ কে এম রহমত উল্লাহ এমপি।