ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১২ (বাসস) : বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়নে জর্জিয়া সাহায্য করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত সেদেশের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জুকাব ক্যাচক্যাচিশভিলী।
আজ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের কাছে পরিচয়পত্র পেশের সময় জর্জিয় রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন।
নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যদিও আমরা মাত্র ২০ বছর আগে স্বাধীনতা লাভ করেছি , তথাপি গত ৭- ৮ বছরে জ্বালানি খাতে লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি অর্জন করেছি এবং আমরা এখাতে সহায়তা করতে আগ্রহী।’
নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান বাংলাদেশ ও জর্জিয়ার মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ব্যাপারে তাঁর সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে সমর্থন করার জন্য জর্জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান বাংলাদেশ থেকে তুলনামূলক কম মূল্যে তৈরি পোশাক, ওষুধ সামগ্রী, পাট ও পাটজাত সামগ্রী, সিরামিক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য আমদানি করার জন্য জর্জিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানান।
জর্জিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নের ব্যাপারেও সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, তার দেশের চিকিৎসা ও প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য স্বাগত জানাতে আগ্রহী। তিনি জানান, জর্জিয়া উচ্চ শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে রুশ ভাষার পরিবর্তে ইংরেজিকে গ্রহণ করেছে এবং তারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাবেন।
তিনি রাষ্ট্রপতিকে আরও জানান, জর্জিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী।
রাষ্ট্রদূত দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নয়নের জন্য জর্জিয়ায় একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করেন।
জর্জিয় রাষ্ট্রদূত সাম্প্রতিক বিশ্ব মন্দা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত থাকার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন ।
নতুন রাষ্ট্রদূত তার মেয়াদকালে বাংলাদেশ ও জর্জিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করবেন বলে রাষ্ট্রপতিকে আশ্বাস দেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জর্জিয়ার নতুন রাষ্ট্রদূত বঙ্গভবনে এসে পৌঁছলে রাষ্ট্রপতির গার্ড রেজিমেন্ট তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে।